সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সাথে এক সহকারী শিক্ষকের অশোভন বাকবিতন্ডতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সর্বত্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শবিবার (১০ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় ফরিদ আহমদ নামের এক ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি আপলোড করা হয়।
এর আগে (২৮ জুলাই) বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক ডেইজী রাণী দাশের উপর হামলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন শিক্ষক সালেহ আহমদ। সালেহ আহমেদ উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামের সাবেক মেম্বার হাছন আলী সাহেবের ছেলে।
এ অপরাধের অভিযোগে তাকে নিজ কর্মস্থল ছয়শ্রী আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গাজীপুর ইউনিয়নের আলিনগর সরকারি বিদ্যালয়ে সালেহ আহমেদকে সংযুক্তি দেওয়া হয়। যদিও কাগজপত্রে তার কর্মস্থল ছয়শ্রী আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উল্লেখ যে, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টম্বর সহকারী শিক্ষিকা ঋতুপর্ণা দেব মিটুর সাথে ওই শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের বিষয়টি জানাজানি হলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হয়। পরে তাকে মুছলেকা দিয়ে ঋতুপর্ণা দেব মিটুসহ সহকর্মি কাহারও সাথে এমন ঘৃনিত কাজ আর না করার অঙ্গিকার করেন।
গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ধারণ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষিকা ডেইজি রাণী দাশ ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আবুল হাশম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে সহকারি শিক্ষক সালেহ আহমদ কর্তৃক নানা ভাবে হেনস্তা, পয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। যা তিনি বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসছেন।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।